প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ ০৩:৩৫
হান্টাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে ফিরে দুই ব্রিটিশ নাগরিক স্বেচ্ছা আইসোলেশনে রয়েছেন। তারা সেই এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজ জাহাজের যাত্রী ছিলেন, যেখানে রহস্যজনক ভাইরাস সংক্রমণে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ মে) এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসএ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত জাহাজটি এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে ওই দুই ব্রিটিশ যাত্রী যাত্রাপথের মাঝেই সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান এবং পরে জোহানেসবার্গ হয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরেন। দেশে ফিরে জাহাজে সংক্রমণের খবর জানতে পেরে তারা নিজেরাই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, দুইজনের শরীরে এখন পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং দেশে ফেরার পথে যাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সংস্থাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রবিন মে মঙ্গলবার বলেন, সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা সবাইকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হবে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, “এটি শুধু আক্রান্তদের সুরক্ষার জন্য নয়, আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্যও জরুরি।”
এদিকে ক্রুজ জাহাজটিতে এখনো প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানিয়েছে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।
বুধবার তিনজন অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন, যিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে একজন ডাচ ক্রু সদস্য এবং একজন জার্মান নাগরিকও রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম। তবে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এ ধরনের সংক্রমণ ঘটতে পারে।
জাহাজটিতে ভাইরাসের উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া জাহাজের বাইরে অন্য কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার মঙ্গলবার বলেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগের পরিস্থিতি।”
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ বন্দরে ভেড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হবে। যাদের শরীরে উপসর্গ নেই, তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের জন্য এখনো ঝুঁকি কম হলেও ক্রুজ জাহাজে এই সংক্রমণ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নতুন সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য, স্পেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন