বাংলাদেশ

ডিসি সম্মেলন শেষে যে বার্তা নিয়ে ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ ০৩:৩০

অংশগ্রহণকারীদের গ্রুপ ফটোসেশন

চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শেষ হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সম্মেলন শেষে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, গায়েবি মামলা যাচাই এবং দুর্নীতি প্রতিরোধসহ একগুচ্ছ নির্দেশনা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে শুরু হওয়া সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নীতিনির্ধারকরা মাঠ প্রশাসনের জন্য দিকনির্দেশনা দেন।

সম্মেলনে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা, নদীভাঙন রোধ, সাইবার নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম ঠেকাতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্মেলনের এক অধিবেশনে জানান, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এখনো জমা পড়েনি। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেওয়া লাইসেন্সগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক ‘গায়েবি মামলা’ যাচাইয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর মামলা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে বলে জানানো হয়।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষা, বনভূমি উদ্ধার, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমন, নারী ও শিশু সুরক্ষা, তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ডিসি সম্মেলনে প্রশাসনকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে জনসেবা ও জবাবদিহিতার ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন মাঠ পর্যায়ে এসব নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন