প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ ০৪:৫২
হরমুজ প্রণালীর মানচিত্র
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের আক্রমণাত্মক ধাপ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার (৬ মে) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি” তার লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
মার্কো রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত নয়, বরং একটি সমঝোতা চুক্তি চান। তবে তার দাবি, এখন পর্যন্ত ইরান সেই পথ বেছে নেয়নি।
রুবিওর এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠছে, অথচ আমরা কেবল শুরু করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ “অজ্ঞাত কোনো বস্তুর” আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এ ঘটনায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করে, দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা যদি এমন হামলা চালাতো, তাহলে তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে কার্যত অবরোধ তৈরি করে, যার মাধ্যমে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো অনেক জাহাজ প্রণালী পার হতে পারছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ বজায় রেখেছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির নৌযান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের দাবি অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অর্থনীতিতে “প্রজন্মগত ধ্বংস” নেমে এসেছে। একইসঙ্গে তিনি ইরানের নেতাদের সতর্ক করে বলেন, “নিজেদের ধ্বংসের পথে এগোনোর আগে তাদের থামা উচিত।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-ও মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধবিরতি “শেষ হয়ে যায়নি”, তবে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর ইরান অন্তত ১০ বার মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরুর মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে আগ্রহী নয়। কারণ এতে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে একইসঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন