সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে।
সোমবার (৪ মে) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহ তেলবন্দরে ড্রোন হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানান, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন ফুজাইরাহ বন্দরে আঘাত হানলে সেখানে ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে একই দিন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে, আর একটি সমুদ্রে পড়ে যায়। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আদনক-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে।
আমিরাত সরকার এ ঘটনাকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক অজ্ঞাতনামা সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এই ঘটনার মধ্যেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে ইরান এ দাবি “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করে। একই দিন ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে।
এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির নৌযান ভূপাতিত করা হয়েছে। যদিও ইরান এ দাবিও অস্বীকার করেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর পর থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ করে দেয়, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়।
এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও এরপরও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতেও নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে।
ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা দিনের হিসেবে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি।
ফুজাইরাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে বড় তেলবন্দর ও সংরক্ষণ কেন্দ্র। আবুধাবির তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এখানে তেল এনে জাহাজে তোলা হয়, ফলে হরমুজ প্রণালী অচল থাকলেও সীমিত আকারে রপ্তানি সম্ভব হয়।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়াও জানায়, আমিরাত উপকূলের কাছে নোঙর করা তাদের একটি জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
একই দিন কাতার আদনক সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারে হামলার নিন্দা জানিয়ে হরমুজ প্রণালী “নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার” আহ্বান জানিয়েছে।
ওমানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সোমবার হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় শহর বুখায় একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি এবং অঞ্চলে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন