বিশ্ব

হরমুজ প্রণালীতে তীব্র উত্তেজনা

ইরানের ৭টি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ ০৪:৩৮

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা করতে গিয়ে ইরানের সাতটি দ্রুতগতির নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।


একই দিন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের ছোট নৌযানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব নৌযান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।

এদিকে সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী ত্যাগ করেছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় পরিচালিত হয়েছে। কোম্পানিটি জানায়, পুরো যাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।

অন্যদিকে, সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তবে একই দিন সেন্টকম এ দাবি অস্বীকার করে জানায়, কোনো মার্কিন জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি।


সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।” তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

একই পোস্টে তিনি “প্রজেক্ট ফ্রিডম” নামে মার্কিন উদ্যোগকে সমালোচনা করে এটিকে “প্রজেক্ট ডেডলক” হিসেবে উল্লেখ করেন।


এদিকে সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে। একই দিনে দেশটির বৃহত্তম তেলবন্দরে ড্রোন হামলার ফলে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।


সোমবার লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউস-এর এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ইরানের সম্মতি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ “ঝুঁকিপূর্ণ” এবং “উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী”।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক তেলের বাজার ও বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।


সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও সরাসরি বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন