যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি নাগরিকের ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে “সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে ঘোষণা করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা পুলিশের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত ওই ফুটেজে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের দিকে এগিয়ে আসছেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বারবার “ছুরিটি ফেলে দাও” বলে চিৎকার করেন। পরে টেজার ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মাটিতে ফেলে আটক করা হয়। এরপর তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় আহত দুই ব্যক্তি হলেন ৭৬ ও ৩৪ বছর বয়সী দুই ইহুদি নাগরিক। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী একজন ব্রিটিশ নাগরিক, যার জন্ম সোমালিয়ায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের একটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে লন্ডনের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে হামলার আগমুহূর্তের দৃশ্যও দেখা গেছে।
ঘটনার পর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “তারা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গ্রেপ্তারের সময়ও সহিংস আচরণ করছিলেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ, সাহস ও টেজারের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশ সদস্যরা।
এদিকে স্থানীয় ইহুদি নিরাপত্তা সংগঠন ‘শোমরিম’-এর এক স্বেচ্ছাসেবক হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে গেলে পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ধর্মীয় নেতা রাব্বি শ্রাগা ফেইভেল জিমারম্যান। তিনি বলেন, “তিনি শুধু শুনেছিলেন একজন ছুরি নিয়ে ঘুরছে, তাই সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছিলেন।”
ঘটনার পর গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন