রাজনীতি

ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ

মোসাদ্দেক ও জুবায়েরকে মারধোর, সাংবাদিকসহ আহত ১২

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (২২), সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক (২৩), শিক্ষার্থী তানজিম (২১), আলভি (২২), এহসান (২৩) এবং শিক্ষার্থী-সাংবাদিক সিফাত (২০), লিটন (২১), খালিদ (২১)সহ আরও কয়েকজন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে ‘প্রধানমন্ত্রী’ তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও আবদুল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দেন।

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় সন্ধ্যার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে থানার বারান্দা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মানজুর হোছাঈন মাহি, লিটন ইসলাম, শামসুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, হারুন ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান, নাইমুর রহমান ইমন ও খালিদ হাসান। এদের মধ্যে সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় ‘শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না’ স্লোগান দিতে দেখা যায় কিছু নেতাকর্মীকে। পরবর্তীতে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দলবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নামও সামনে এসেছে, যাদের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এক নেতা ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ডাকসুর নেতৃবৃন্দ থানায় গেলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন