রাজনীতি

উপনির্বাচনে ‘বিভৎস চিত্র’

দলীয় সরকারের অধীনে ভোট নিয়ে শঙ্কা জামায়াতের

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৫

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম, জাল ভোট ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কেমন হতে পারে, তার ‘বিভৎস রূপ’ ইতোমধ্যেই জাতির সামনে চলে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দুই নির্বাচনে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের পবিত্র আমানত। সেখানে যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তারা যদি জনগণের রায়কে শক্তি প্রয়োগ করে বদলে দেন, তাহলে দেশ ও জাতির কোনো উপকার হবে না। বরং এতে গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা ও জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, যারা জনগণের রায়ের প্রতি বিশ্বাস রাখেন, তারা কখনোই গায়ের জোরে ভোট নিতে চান না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভয়ভীতি, জাল ভোট ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

এদিকে দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। বরং কোনো একটি মহলের নির্দেশে তারা নীরব থেকেছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে হওয়া প্রথম দুটি উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা জাতীয় নির্বাচনের সময় কী পরিস্থিতি হবে, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে, সেসব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর কর্মসূচি না দিয়ে দলটি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে বলেও জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জামায়াত এ বিষয়ে আবেগতাড়িত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, বরং নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন