জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে সরকার আগে যে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল, সেই সিদ্ধান্ত এবার আইনে পরিণত হলো।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আইনটি পাসের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংসদীয় অনুমোদন পেল। এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত এতদিন অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কার্যকর ছিল। এখন তা আইন হিসেবে কার্যকর থাকবে।
সংসদে বিল উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান। তিনি বলেন, বিলের কপি মাত্র কয়েক মিনিট আগে হাতে এসেছে। এটি একটি স্পর্শকাতর আইন হওয়ায় আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়া উচিত।
তবে স্পিকার জানান, বিলের এ পর্যায়ে এসে আপত্তি বা সংশোধনের সুযোগ নেই। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় সংশোধনী বা আপত্তি তোলা প্রয়োজন ছিল।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং জনমতের প্রেক্ষাপটে আইনটি আরও কঠোর ও স্পষ্ট করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই কারণেই সংশোধনী আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণহত্যা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তি এই সংশোধনীর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর আওতায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে এবং সংগঠন হিসেবেও দলটির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন আইনের ফলে নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনগুলো কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম, সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচার বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন