লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ১০০ জনেরও বেশি। নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টির বেশি বিমান হামলা চালায়। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনা। তবে লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিকাংশ হামলাই হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায়। এতে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
লেবাননের বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি হাসপাতাল সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। টাইর শহরের কাছে একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের ক্লাইলেহ এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
এই হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক বলেছেন, এত বড় মাত্রার বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হতে পারে। তিনি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
এর আগে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে ইরান বলছে, সেই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, লেবানন ওই সমঝোতার অংশ নয়। এ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন