সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১ম অধিবেশন
গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশনসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপন না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে যাচ্ছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সেই নিয়মেই এসব অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ হতে যাচ্ছে।
বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, বাতিলের পথে থাকা এই ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে না এনে আরও সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে নতুনভাবে উপস্থাপন করা উচিত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এ বিষয়ে পুনরায় কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধনসহ রাজস্ব, তথ্য অধিকার ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে আনার এবং ৪টি অধ্যাদেশ সরাসরি বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে ভিন্নমতও উঠে এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কমিটির কিছু সদস্য আপত্তি জানিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট খাতে নীতিগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত নতুন আইন প্রণয়ন বা সংশোধিত বিল আনার মাধ্যমে এই শূন্যতা পূরণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ গঠিত ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন