বিশ্ব

চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৩:০১

ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতা না হলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে।

রোববার (২৯ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র এমন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাবে, যেগুলো এখন পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

তিনি বিশেষভাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কথাও উল্লেখ করেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী হলেও আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে, যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের কথা স্বীকার করেছে।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এ রুট দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলেও ঝুঁকি বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধান না হলে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন