আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৩৭
যুবরাজ সালমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুবরাজ সালমান ট্রাম্পকে বলেছেন—ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য “দীর্ঘমেয়াদি হুমকি” এবং চলমান সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার আগেই তেহরানের ক্ষমতাকাঠামো দুর্বল করা জরুরি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প মাঝেমধ্যে সংঘাত থামানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও সৌদি নেতৃত্ব যুক্তি দিচ্ছে—এ মুহূর্তে যুদ্ধ থামানো হলে তা কৌশলগত ভুল হবে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে রিয়াদ।
তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলাপ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করবেন না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যেই এই খবর সামনে আসে। এর আগে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প এবং ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেন।
পরে তিনি ঘোষণা দেন, পাঁচ দিনের জন্য হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান দাবি করে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি ফারস বার্তা সংস্থার তথ্যে জানা যায়, ইস্পাহান ও খোররামশহর এলাকায় গ্যাস স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এতে একটি গ্যাস প্রেসার স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানও পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, এক রাতেই পাঁচ দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে। অধিকাংশই প্রতিহত করা হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিয়ারশেবা শহরের বাইরে আঘাত হানে এবং ধ্বংসাবশেষে কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবসহ উত্তর ইসরায়েলেও হামলার সতর্কতা জারি হয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আকার নিচ্ছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন