বিশ্ব

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানালো যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৭

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারত মহাসাগরের কৌশলগত দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যৌথ মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে “বেপরোয়া হুমকি” দেওয়ার অভিযোগ এনে নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার (২১ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মিত্র দেশগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে যুক্তরাজ্য কেবল প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেবে, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে কোনোটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে এবং অন্যটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ ভূপাতিত করে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

ইরান থেকে প্রায় ৩,৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে এত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তবুও ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিমান ও নৌ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযানের জন্য এখান থেকে দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান পরিচালনা করা হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্য করে হামলার অনুমতি দেওয়ার পর এই ঘটনা সামনে আসে। ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, এমন সহযোগিতা যুদ্ধের অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, তারা কেবল নিজেদের নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়াই তাদের লক্ষ্য।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন