ইরানের মিসাইল হামলার পর আরব আমিরাতের একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এই সংঘাতে জড়িত নয় এবং আমিরাতের ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না।
জেনেভায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ জাতিসংঘ সংবাদদাতা সমিতির সঙ্গে আলাপকালে এ অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকেই আমিরাত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হবে না। এ ধরনের সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছাও তাদের নেই।
রাষ্ট্রদূত মুশারখ অভিযোগ করেন, যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির ওপর এক হাজার ৪০০টির বেশি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও অধিকাংশ হামলাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেস্তে দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু হামলা বেসামরিক অবকাঠামো যেমন পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১১৪ জন আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত শুরু থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দুই দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি যুদ্ধ চলাকালে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হওয়া হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাস্তবতা হলো তাদের দেশ হামলার শিকার হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নয়। তাই যুদ্ধে জড়িত নয় এমন তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন