প্রবাস

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৪:২১

অভিবাসন প্রত্যাশীদের বহুল কাঙ্খিত ইউকে বর্ডার

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ও অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘোষণা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নতুন আশ্রয় আবেদনকারীরা শরণার্থী মর্যাদা পেলেও আগের মতো দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাবেন না। বরং তাদের প্রথমে সীমিত মেয়াদের ভিসা দেওয়া হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন নীতির আওতায় যারা এখন থেকে আশ্রয় আবেদন করবেন এবং আবেদন অনুমোদিত হবে, তারা প্রথমে ৩০ মাস বা আড়াই বছরের জন্য লিমিটেড লিভ টু রিমেইন পাবেন। এই সময় শেষে তাদের অবস্থান আবার মূল্যায়ন করা হবে।

নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন এসেছে

নতুন নীতির মূল লক্ষ্য হলো আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন আশ্রয় আবেদনকারীরা আবেদন জিতলে প্রথমে ৩০ মাসের ভিসা পাবেন। এই সময় শেষে পুনরায় পর্যালোচনার মাধ্যমে ভিসা নবায়ন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের পরিস্থিতি নিরাপদ হলে আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে

সরকারের মতে, এতে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা “স্থায়ী বসবাসের শর্টকাট” হয়ে ওঠা বন্ধ হবে।

পুরোনো আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম

হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ম আগে থেকে আবেদন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

যারা ইতোমধ্যে আশ্রয় আবেদন করেছেন বা আগের নিয়মে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন, তারা আগের নীতির আওতাতেই থাকবেন। তাদের ভিসা বা সুরক্ষা মর্যাদায় এই নতুন নীতির প্রভাব পড়বে না।

কেন এই পরিবর্তন

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু ক্ষেত্রে বৈধ ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করে পরে আশ্রয় আবেদন করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার বলছে, এই পরিস্থিতিতে আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে এবং এর ফলে প্রশাসনিক ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আশ্রয় নীতি পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কড়াকড়ি

আশ্রয় নীতির পাশাপাশি ভিসা ব্যবস্থাতেও নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার “ভিসা ইমার্জেন্সি ব্রেক” নামে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে কোনো দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন হঠাৎ বেড়ে গেলে সেই দেশের জন্য দ্রুত ভিসা সীমিত বা স্থগিত করা যাবে।

এছাড়া কিছু দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কমিউনিটির উদ্বেগ

এই নতুন নীতির কারণে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় ও বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আশ্রয় পাওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী হওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা ধীরে ধীরে আরও কঠোর হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আশ্রয় আবেদনকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতাও বাড়তে পারে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

প্রবাস থেকে আরো পড়ুন