প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৩:২১
হাউজ অব কমন্স এ বক্তব্য রাখছেন কিয়ার স্টারমার। ছবি: বিবিসি
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিরোধী নেতারা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় স্টারমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাকে হতাশ করেছে এবং স্টারমারকে “উইনস্টন চার্চিলের মতো নেতা নন” বলেও মন্তব্য করেন।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না। তার ভাষায়, ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক স্টারমারের নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নিজে পদক্ষেপ না নিয়ে মিত্র দেশগুলোর ওপর নির্ভর করছে।
তার দাবি, ইরানের হামলায় বাহরাইন ও সাইপ্রাসে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও সরকার যথেষ্ট কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ব্রিটেন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া সাইপ্রাসে অ্যান্টি ড্রোন সক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগনকে ওই অঞ্চলে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করেনি। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইরানের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানাতে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইরানের হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরকার জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন