বিশ্ব

ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ

ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দিলো যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৫:২২

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। রোববার এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করবে। এর লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণের আগেই ধ্বংস করা। তার ভাষায়, এটি মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষার অংশ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্যভাবে গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। অতীতে দীর্ঘপাল্লার ভারী বোমা হামলার ক্ষেত্রেও এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে।

স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানে প্রাথমিক হামলায় অংশ নেয়নি এবং বর্তমানে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে যুক্ত হচ্ছে না। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান অঞ্চলজুড়ে নির্বিচারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।

তার দাবি, ইরানি হামলায় বিমানবন্দর ও হোটেলসহ এমন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা অবস্থান করছিলেন। শনিবার বাহরাইনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়, যা ব্রিটিশ সেনাদের খুব কাছাকাছি আঘাত হানে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় দুই লাখ ব্রিটিশ নাগরিক অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

স্টারমার বলেন, হুমকি বন্ধ করার কার্যকর উপায় হলো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে সংরক্ষণাগার বা উৎক্ষেপণযন্ত্রে ধ্বংস করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকার তাদের আইনি অবস্থানের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে।

এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও আকাশ প্রতিরক্ষা তৎপরতা জোরদার করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষায় কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় ব্রিটিশ সরকার অঞ্চল থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন ও জটিল মাত্রা পেতে পারে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন