বিশ্ব

ইরানে হামলার পেছনে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫১

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগে সৌদি আরবও নেপথ্যে সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলার বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছিল ইসরায়েল ও সৌদি আরব। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল দ্বিমুখী বলেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ফোনালাপ করে দ্রুত পদক্ষেপের পক্ষে মত দেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেন।

একই সময়ে রিয়াদ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ইরানে হামলা হলে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে যুবরাজ সতর্কবার্তা দেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার ট্রাম্প বলেন, দুটি কারণে তিনি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অনুমোদন করেন। প্রথমত, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করেছিল তেহরান।

ট্রাম্পের ভাষ্য, “ইরান কখনও এগিয়ে আসে, আবার সরে যায়। এতে বোঝা গেছে তারা প্রকৃত অর্থে চুক্তি চায় না।”

তিনি আরও জানান, গত ২৫ বছরে ইরান-সম্পর্কিত সহিংস ঘটনার একটি তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন এবং তাতে দেখা যায় প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ প্রতিবেদন নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় আগুন জ্বালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি সম্পৃক্ততার প্রশ্ন সামনে এলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট ।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন