ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় শাসন পরিবর্তনই “সবচেয়ে ভালো সমাধান” হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই “অসাধারণ ক্ষমতার প্রদর্শন” দেখা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই মন্তব্য আসে। এর পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের প্রতিনিধিও থাকতে পারেন। একই দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতেও পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানে শাসন পরিবর্তনের প্রশ্নে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানান কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে।” তবে পরিবর্তনের পর দেশটির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি তিনি।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ দমননীতির বিষয়গুলো পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা সম্ভব হলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার অংশ হবে না।
চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিনকনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ বহরের সঙ্গে থাকবে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই রণতরী ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন