প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:২৮
সিলেটের ছয়টি আসনে বিজয়ী প্রার্থীরা
আবুল কাশেম রুমন, সিলেট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলেও সিলেটে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দিনশেষে ছয়টি আসন মিলিয়ে গড় ভোট পড়েছে ৪৮.১৫ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, নগর এলাকায় তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ এবং কিছু উপজেলায় মাঝারি উপস্থিতির কারণেই সামগ্রিক হার পঞ্চাশ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
সিলেট-১
সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬, নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন।
ভোটের হার ছিল এলাকায় ভেদে ভিন্ন। সদর উপজেলায় ৫৫.৮৯ শতাংশ হলেও মহানগরের চার অংশে তা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকে।
এ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। ১৮৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৫ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯২ ভোট। ব্যবধান ৪২ হাজার ২২৩।
মোট ২১৫ কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টির ফল অপেক্ষমাণ থাকলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে মুক্তাদীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সিলেট-২
বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোট পড়েছে যথাক্রমে ৪৯.৫৬ ও ৪২.২৭ শতাংশ।
সব ১২৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ ভোট। খেলাফত মজলিসের মুহা. মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৪৪৬ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৮০ হাজার।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২ জন।
সিলেট-৩
দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে ভোটের হার ছিল ৪৪ থেকে ৫৩ শতাংশের মধ্যে।
বিএনপির এম এ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি।
সিলেট-৪
কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ভোটের হার ছিল তুলনামূলক বেশি, ৫০ শতাংশের ওপরে।
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। জামায়াতের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট। ব্যবধান এক লাখের বেশি, যা এ অঞ্চলে বিএনপির শক্ত অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
সিলেট-৫
কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোট পড়েছে ৪৯ থেকে ৫৫ শতাংশের মধ্যে।
এখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান জয় পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। উল্লেখযোগ্যভাবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ চাকসু মামুন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়ে ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছেন।
সিলেট-৬
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৪৬ ও ৪২.৩৪ শতাংশ।
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৭ হাজার ৫৪৮ ভোট, যা এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা নির্দেশ করে।
সামগ্রিক চিত্র
সিলেটের ছয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি ও তাদের ঘনিষ্ঠ প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। একটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ভোটের হার মাঝারি হলেও বেশিরভাগ আসনে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, নগর এলাকায় ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে না পারা বড় দলগুলোর জন্য ভবিষ্যতে ভাবনার বিষয় হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অঞ্চলে সংগঠিত ভোটব্যাংকই ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন