বাংলাদেশ

বিএনপির জয়ের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনে ‘আশাবাদী’ ভারত

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:০৮

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় ব্যবধানে জয়ের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে কৌশল নির্ধারণ শুরু করেছে ভারত। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শক্তিশালী গণরায় পাওয়া একটি নির্বাচিত সরকারকে সামনে রেখে দিল্লি এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা দেখছে।

ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলেছে, দিল্লি দীর্ঘদিন ধরে মনে করে আসছিল—বাংলাদেশে শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পূর্বানুমানযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল সেই ধারণাকে আরও দৃঢ় করেছে বলে তারা মনে করছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি

ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই নির্বাচনকে অন্তর্বর্তী সরকারের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সময়টিকে নয়াদিল্লি খুব স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখেনি। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিলম্ব, পারস্পরিক দোষারোপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে সম্পর্কের অবনতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাওয়া সরকারই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও দাবি করেন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও চরমপন্থা ইস্যু নিয়েও দিল্লির উদ্বেগ ছিল, যা সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।

নতুন সরকারের দিকে নজর

নির্বাচনের পর এখন ভারতের নজর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দিকে। বিশেষ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে দিল্লি ‘সতর্ক আশাবাদী’ অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় নতুন সরকার বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তাকেও এই ইতিবাচক বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নিতে পারে। এর মাধ্যমে অতীতের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করার বার্তা দেওয়া হবে।

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য।

ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশও তার বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিতে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছে। ফলে দিল্লির জন্য সম্পর্ক পুনর্গঠন হবে কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বর্তমান কৌশল তিনটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে—বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় জোরদার এবং নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু অধিকার ইস্যুতে নজর রেখে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন।

সব মিলিয়ে, বিএনপির নির্বাচনী জয়ের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার জানালা খুলেছে—তবে তা কতটা দ্রুত ও কতদূর এগোয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তববাদী কূটনীতির ওপর।

বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন