বাংলাদেশ

জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ

নির্বাচনের ফল যাই হোক, জাতির স্বার্থই হোক অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:২২

জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণকালে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি গণতন্ত্র, সংযম ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, বিজয় যেমন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, তেমনি পরাজয়ও এর অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাইকে একসঙ্গে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে আসতে হবে।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। তার ভাষায়, একটি ভোট শুধু সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নয়, এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের নীরবতা, দমন ও বাধাহীন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের জবাব। এই ভোটের মাধ্যমেই জাতি নতুনভাবে নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং প্রমাণ করবে যে তরুণ, নারী ও সংগ্রামী মানুষের কণ্ঠ আর কখনো চাপা পড়বে না।

ভাষণে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বাধিক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, যেখানে আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোর তুলনায় প্রার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ বা নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রতিফলন। রাজপথে উচ্চারিত সেই দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হচ্ছে না, একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ কি একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ধারায় ফিরে যাবে— সেই সিদ্ধান্ত দেবে এই নির্বাচন ও গণভোট।

ভাষণের শেষাংশে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, গণতন্ত্রের শক্তি জনগণের হাতে। সেই শক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগই পারে বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন