পোস্টাল ব্যালট
বায়ান্ননিউজ২৪ ডেস্ক: নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেননি আড়াই লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ব্যালট হাতে পেয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী ভোটার ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার বিষয়ে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১২৩টি দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৮টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে ঠিকানা জটিলতা ও অন্যান্য কারণে ১২ হাজার ১৭০টি ব্যালট ভোটারের কাছে পৌঁছায়নি এবং সেগুলো ইতোমধ্যে দেশে ফিরে এসেছে।
অবশিষ্ট ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৮টি ব্যালটের মধ্যে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৫ লাখ ১ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী। অর্থাৎ এখনও ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৬ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট ফেরত পাঠাননি। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি তিনজন প্রবাসী ভোটারের একজন এখনো ভোটে অংশ নেননি।
প্রবাসী ভোটারদের একটি বড় অংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থার ঘাটতি এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তে তারা হতাশ। অনেকের মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনকে তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক মনে করছেন না। ফলে পোস্টাল ব্যালট হাতে পেলেও ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।
লন্ডন, রিয়াদ ও কুয়ালালামপুরে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী ভোটার বায়ান্ননিউজকে বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ ছিল, কিন্তু যে নির্বাচনে প্রধান একটি দল নেই, সেটিকে আমরা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছি না। সরকার নিরপেক্ষ থাকতে পারবে কিনা, সেই সন্দেহও আছে।”
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালট ভোটের দিন বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। এর পর পৌঁছানো কোনো ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও দেশের বাইরে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৫৩টি ভোট, যা মোট নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ও হচ্ছে। প্রতি প্রবাসী ভোটারের জন্য গড়ে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ঠিকানা সমস্যার কারণে ফেরত আসা ব্যালটেই ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ লাখ টাকার মতো ব্যয় অনাবশ্যকভাবে খরচ হয়ে গেছে। ভোট না দেওয়া ব্যালটের সংখ্যা বাড়লে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা প্রক্রিয়াগত দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে প্রবাসীদের ভোটে অনাগ্রহের পেছনে রাজনৈতিক আস্থার সংকট যে বড় ভূমিকা রাখছে, সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভোটারের ভোট না দেওয়া কেবল পরিসংখ্যানগত বিষয় নয়; এটি নির্বাচনের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক আস্থার সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন