রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশটি এখন মোট বিদ্যুৎ চাহিদার মাত্র ৬০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পরিস্থিতিকে ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে ঠান্ডা ও অন্ধকার শীত বলে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ১১ গিগাওয়াট, যেখানে দেশের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ১৮ গিগাওয়াট। এই বড় ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
নতুন করে শুরু হওয়া রুশ হামলা, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড এখন চরম চাপের মুখে রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কিয়েভ সরকার চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেনিস শ্মিহালকে নতুন জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্মিহাল জানান, রাজধানী কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা এবং সামনের সারির কাছাকাছি শহরগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। শূন্যের নিচে তাপমাত্রায় হাজার হাজার পরিবার দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ও গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, রুশ হামলার তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে এবং ইউক্রেনে এমন কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নেই, যা হামলার শিকার হয়নি। কিছু এলাকায় শীতকালীন প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়িয়েছে। তবে সর্বোচ্চ আমদানি সক্ষমতা মাত্র ২.৩ গিগাওয়াট হওয়ায় এবং উচ্চমূল্যের কারণে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
শ্মিহাল জানান, নাফটোগাজ, ইউক্রোবোরোনপ্রম ও রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের বাইরের বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধের অংশ এবং এতে কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, এসব হামলার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো এবং দেশের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
বায়ান্ননিউজ২৪ আবির
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন