বিশ্ব

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করল ইরান

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৫৪

সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইরান আজ ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৮০০ বিক্ষোভকারীর শাস্তি স্থগিত করেছে।” তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

গত প্রায় ২০ দিন ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কাঁপছে ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতাসীন সরকার তাদের ৪৭ বছরের শাসনামলে এমন ব্যাপক ও দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখোমুখি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে ইরানে চরম মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। এ অবস্থায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দিলে সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। দিন দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা দেশ।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান অস্থিরতার কারণে ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার আশঙ্কা আপাতত কমে এসেছে।

সূত্র: এএফপি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন