লাইফস্টাইল

সম্পর্ক মজবুত কি না বুঝবেন যেভাবে: মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের গাইডলাইন

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ ০৪:৩৫

ছবি: ইন্টারনেট

লাইফস্টাইল ডেস্ক | বায়ান্ননিউজ

দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্ক মানেই সব সময় নিখুঁত বোঝাপড়া—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। ঝগড়া, মতভেদ কিংবা কঠিন সময় প্রায় সব সম্পর্কেই আসে। তবে সেসব পরিস্থিতি একসঙ্গে সামাল দেওয়ার সক্ষমতাই বলে দেয় সম্পর্ক কতটা শক্ত।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর থেকেই সহজে বোঝা যায়—আপনার সম্পর্ক আসলে কতটা সুস্থ ও দৃঢ়।

বন্ধুত্ব আছে কি সম্পর্কের ভেতরে?

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন,
“সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব।”

তিনি পরামর্শ দেন—নিজেকে প্রশ্ন করুন,

দম্পতি না হলেও কি আপনারা বন্ধু থাকতে পারতেন?

একসঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা বা হাসতে কি ভালো লাগে?

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে কি সঙ্গীর মতামত চান?

উত্তর যদি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সম্পর্কের ভিত সাধারণত মজবুত।

সঙ্গীর সঙ্গে থাকলে নিজেকে কেমন লাগে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ সম্পর্কে সঙ্গী একজন মানুষকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও অনুপ্রাণিত করে।

ডা. দিনা বলেন,
“যদি সঙ্গীর সঙ্গে থেকে নিজেকে ছোট, দমবন্ধ বা সব সময় ক্লান্ত মনে হয়, সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্ক সংকেত।”

অন্যদিকে,

লক্ষ্য পূরণে উৎসাহ দেওয়া

সাফল্য উদযাপন করা

বিপদের সময় পাশে থাকা

এসবই সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

গ্রহণযোগ্যতা আছে কি?

কোনো মানুষই নিখুঁত নয়। সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীর ছোটখাটো সীমাবদ্ধতা—যেমন অভ্যাসগত দুর্বলতা বা বিরক্তিকর কিছু বিষয়—গ্রহণ করার মানসিকতা থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন,
মানসিক নির্যাতন, অপমান বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

সুখের খবর কার সঙ্গে ভাগ করেন?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতি নিজেদের ভালো খবর সবার আগে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করেন এবং একে অপরের সাফল্য উদযাপন করেন, তাঁদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি স্থায়ী ও সুখী হয়।

নিজেকে প্রশ্ন করুন—
কোনো ভালো খবর পেলে কি সবার আগে সঙ্গীর কথাই মনে পড়ে?

উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সম্পর্ক যে গভীর ও নিরাপদ—তার ইঙ্গিত মেলে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দরকার—

খোলামেলা যোগাযোগ

পারস্পরিক সম্মান

আবেগ ভাগাভাগি

এবং প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলিং নেওয়ার মানসিকতা।

 বায়ান্ননিউজ২৪/ফারহানা

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন