লাইফস্টাইল

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ৭ খাবার: কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০২:৫৭

ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর এই সবজিগুলো

ক্যান্সার এমন একটি জটিল রোগ, যেখানে শরীরের কিছু কোষ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। বিশ্বজুড়ে এটি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা একমত—ক্যান্সার প্রতিরোধে কোনো একক খাবারই চূড়ান্ত সমাধান নয়। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিচের খাবারগুলো নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে।

১. ক্রুসিফেরাস শাকসবজি

ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রাসেলস স্প্রাউটসের মতো সবজিতে থাকা সালফোরাফেন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সবজি নিয়মিত খেলে কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।

২. বেরি ও রঙিন ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ডালিম ও সাইট্রাস ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এগুলো শরীরের কোষকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

৩. টমেটো

টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ করে প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। রান্না করা টমেটো থেকে লাইকোপিন আরও ভালোভাবে শোষিত হয়।

৪. হলুদ

হলুদের প্রধান উপাদান কারকিউমিন প্রদাহ কমাতে সহায়ক। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ অনেক সময় ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত রান্নায় হলুদের ব্যবহার উপকারী হতে পারে।

৫. রসুন ও পেঁয়াজ

রসুন ও পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব খাবার অন্তর্ভুক্ত খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

৬. গ্রিন টি

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান শরীরের কোষের ক্ষতি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

৭. আস্ত শস্য ও ডাল

আস্ত শস্য ও ডালে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্ত্র সুস্থ থাকলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।

মনে রাখবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। এর মধ্যে রয়েছে—

প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফল খাওয়া

পরিমিত ক্যালোরি গ্রহণ

ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম

প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা

কোনো খাবারই ক্যান্সারের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতন জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে—এটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান অভিমত।

বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন