লাইফস্টাইল

কলা খেলে কি ঠাণ্ডা লাগে? মিথ নাকি বাস্তবতা

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:০৯

কলা খেলে কি আসলেই ঠান্ডা লাগে

শীত এলেই অনেকের মুখে শোনা যায়—‘কলা খেয়ো না, ঠাণ্ডা লেগে যাবে’। সর্দি-কাশির ভয়েই শীতকালে অনেকেই কলা খাওয়া এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এই ধারণার পেছনে কি সত্যিই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? নাকি এটি শুধুই একটি প্রচলিত মিথ?

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, কলা খাওয়ার সঙ্গে সর্দি-কাশির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “কলা কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নয় যে এটি খেলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে।”

ডা. নয়নের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কলায় তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় হিস্টামিন থাকে, যা শরীরে শ্লেষ্মা বা মিউকাস উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে যাদের অ্যালার্জি, সাইনাস বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি বা শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা আগে থেকেই সর্দি-কাশিতে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে কলা এড়িয়ে চলাই ভালো।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পাকা কলায় প্রোটিনের গঠন কিছুটা বদলে যায়, যা অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে কিছু আমিষজাতীয় খাবারের সঙ্গে কলা খেলে গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। রাতে কলা খাওয়াও নিরুৎসাহিত করা হয়, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে ভারী এবং হজমে সময় নেয়।

তবে সুস্থ মানুষের জন্য শীতকালে কলা খাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। বরং এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল। পাকা কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লৌহ, ফলেট, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন বি-৬—যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

কলা হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং শীতকালে শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কলায় থাকা উপাদান মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মন ভালো রাখতে ও মানসিক সজাগতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ রয়েছে, তাঁদের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কলা খাওয়া উচিত নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত পাকা কলা ক্ষতিকর হতে পারে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম।

ডা. আফসানা হক নয়নের পরামর্শ, “সঠিক পরিমাণে কলা খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী। বয়সভেদে এবং শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সবাই শীতকালেও নিশ্চিন্তে এই ফল খেতে পারেন।”

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলা নিয়ে প্রচলিত ভয় বা কুসংস্কারের পেছনে তেমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

বায়ান্ননিউজ২৪/ফারহানা

লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন