ছবি: সংগৃহীত
ত্রিশ বছর বয়সকে জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠা, পরিবার গঠন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চাপের মধ্যে অনেকেই অজান্তেই নিজের স্বাস্থ্যকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেন। অথচ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত বহু সমস্যার ভিত্তি তৈরি হয় এই বয়সেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিশের পর মানুষের কিছু সাধারণ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সাম্প্রতিক জার্নালভিত্তিক তথ্যের আলোকে উঠে এসেছে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল।
ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুমকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ৬.৪ থেকে ৭.৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের জৈবিক বার্ধক্য ধীর করতে সহায়ক। অপরদিকে কম ঘুম শরীরে প্রদাহ, মানসিক চাপ এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষকরা বলছেন, ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি মস্তিষ্ক, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান।
চিকিৎসকদের মতে, ত্রিশের পর সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কিংবা ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বিকশিত হতে পারে। ফলে সুস্থ অনুভব করলেই যে শরীর সুস্থ আছে, এমন ধারণা অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
সপ্তাহজুড়ে বসে কাজ করার পর অনেকেই সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা জিম বা খেলাধুলা করে নিজেদের সক্রিয় মনে করেন। তবে গবেষণা বলছে, সপ্তাহে এক বা দুই দিন ব্যায়াম করলেও কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ হয় না। শরীরের জন্য নিয়মিত নড়াচড়া এবং প্রতিদিন কিছু সময় শারীরিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকা বেশি উপকারী।
কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও আর্থিক চাপের কারণে ত্রিশের পর অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও দেখিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
অনেকেই অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তের সুগার পর্যবেক্ষণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা ভবিষ্যতের বড় রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিশের পর সুস্থ থাকতে পাঁচটি অভ্যাস জরুরি—
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যক্রম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনতাদের ভাষায়, “ত্রিশ বছর বয়সের পর স্বাস্থ্য আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বরং বর্তমানের বিনিয়োগ। এই বয়সে নেওয়া সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে চল্লিশ, পঞ্চাশ কিংবা ষাটের জীবনের মান।”
লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন