বাংলাদেশ

ইউনূস যদি দেশকে কারাগার বানাতে চান, বানাতে পারেন: আদালতে আনিস আলমগীর

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:০৮

সাংবাদিক আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালতে দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে আনা ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ ও ‘দেশের জননিরাপত্তা বিপন্ন করার’ অভিযোগকে মিথ্যা ও সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে কথা বলা থামাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি সারা বাংলাদেশকে কারাগার বানাতে চান, তাহলে তা বানাতে পারেন।”

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে রোববার রাত আটটার পর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

সোমবার আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান। আবেদনে বিভিন্ন টকশো মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, টকশোর নামে সরকারকে হেয় করা ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আনিস আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন আক্তার রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, আনিস আলমগীর একজন সাহসী সাংবাদিক, শিক্ষক ও লেখক, যিনি কখনো আপস করেননি এবং তিনি কোনোভাবেই রাষ্ট্র বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্যে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি ইরাক ও আফগান যুদ্ধ কাভার করেছেন এবং দুই যুগ ধরে নির্ভয়ে সাংবাদিকতা করে আসছেন। “খালেদা জিয়ার আমলেও কথা বলেছি, আওয়ামী লীগের আমলেও বলেছি, এখনো বলছি এবং ভবিষ্যতেও বলব,” বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্য দেশের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি কথা বলেছেন। অভিযোগে যাদের সঙ্গে যোগসাজশের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

শুনানি শেষে আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার বিবরণে দাবি করা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোর মাধ্যমে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন