সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশ
নোবেল বিজয়ী এবং বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বজুড়ে পরিচিত ভাবমূর্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ‘ভয়াবহ রূপ’ উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে নির্বাসনে থাকা এই কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি’, ‘আর্থিক জালিয়াতি’ এবং একটি সমান্তরাল ‘ছায়া রাষ্ট্র’ (Shadow State) পরিচালনার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।
সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি, ড. ইউনূসকে বিশ্ববাসী একজন ‘সাধু’ হিসেবে জানলেও, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেতর থেকে তারা দেখেছেন এক ভিন্ন চিত্র—যেখানে তিনি নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব বলয় তৈরি করে দিনের পর দিন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে ছিলেন।
আমিনুল হক পলাশ গোপন নথি ও আর্কাইভাল তথ্যের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ড. ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্রঋণের আসল উদ্ভাবক নন। পলাশ বলেন, “এই নথিগুলো ড. ইউনূসের তৈরি করা মিথ বা পৌরাণিক কাহিনীকে ভেঙে দেয়। তিনি মাইক্রোক্রেডিট আবিষ্কার করেননি; বরং তিনি অন্যের ধারণা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং আসল উদ্ভাবকদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলেছেন।”
অভিযোগে বলা হয়, জোবরা গ্রামের গ্রামীণ ঋণ প্রকল্পটি মূলত ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রজেক্ট ছিল, যার নকশা করেছিলেন স্বপন আদনান, নাসিরউদ্দিন এবং এইচ আই লতিফীর মতো তরুণ গবেষকরা। ড. ইউনূস তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আসল গবেষকদের নাম মুছে ফেলা হয় এবং ড. ইউনূস একাই এর কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন। পলাশ একে ‘আর্থিক দুর্নীতি’র চেয়েও বড় অপরাধ, অর্থাৎ ‘বুদ্ধিবৃত্তিক ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাশ অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস এমন একটি ‘স্ট্রাকচার’ বা কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যার মূল কাজ ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করা এবং জনগণের টাকা ব্যক্তিগত ভেইকেলে (Private Vehicles) সরিয়ে নেওয়া। তিনি বলেন, “বিশ্ব দেখেছে একজন সাধুকে, কিন্তু বাংলাদেশ দেখেছে একটি সিন্ডিকেট। এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল যেখানে অর্থের কোনো সঠিক অডিট বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অসম্ভব ছিল।”
নিজের নির্বাসিত জীবনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক জানান, ড. ইউনূসের আর্থিক নেটওয়ার্ক বা ‘ফাইন্যান্সিয়াল আর্টারি’ নিয়ে তদন্ত শুরু করলেই তার ওপর নেমে আসে চরম চাপ। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের পরই আমার চারপাশের পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে ওঠে। গোয়েন্দা সংস্থার সহকর্মীরা আমাকে সতর্ক করে জানান যে, আমাকে ‘নিউট্রালাইজ’ (নিষ্ক্রিয়) বা ‘গুম’ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এমনকি ভারত থেকে আমাকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা ছিল সেই চক্রান্তেরই অংশ। দেশে ফেরা মানেই ছিল নিশ্চিত মৃত্যু।”
ড. ইউনূসের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলাশ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, “যদি ড. ইউনূস মনে করেন তার লিগ্যাসি বা অর্জন পবিত্র, তবে তিনি তার সমস্ত আর্থিক লেনদেন, প্রতিষ্ঠান এবং গায়েব হয়ে যাওয়া মামলাগুলোর ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফরেনসিক অডিট মেনে নিন। লুকানোর কিছু না থাকলে তার ভয়ের কিছু নেই। বিশ্ববাসীর উচিত মিথের বদলে সত্যটা জানা।”
এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারটি ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ভাবমূর্তিতে বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ‘নিউজ১৮
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন