প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্য থেকে লরি ও ভ্যানে লুকিয়ে মানুষকে অবৈধভাবে ফ্রান্সে পাঠানোর অভিযোগে ২১ সদস্যের একটি মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত। পূর্ব লন্ডন ও টাওয়ার হ্যামলেটসকেন্দ্রিক এই চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত চালায় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। আদালতের রায়ে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে ফ্রান্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করত। এ কাজে জনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। লন্ডন থেকে মিনিক্যাব ও ট্যাক্সিতে করে যাত্রীদের কেন্ট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। পরে রোমানীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লরিচালকদের ঘুষ দিয়ে তাঁদের গাড়িতে লুকিয়ে সীমান্ত পার করানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির কার্যক্রমে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। কেউ যাত্রী সংগ্রহ ও পরিবহনের ব্যবস্থা করতেন, কেউ ট্যাক্সি বা মিনিক্যাবের মাধ্যমে তাঁদের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতেন, আবার কেউ সীমান্ত পারাপারের জন্য লরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এভাবে সংগঠিতভাবে যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
আদালতের রায়ে প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ২৬ বছর বয়সী সুহেল আহমেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্যাক্সিচালক মো. আলী হোসেন ও সৈয়দ আহমেদকে ছয় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কর্মকর্তা জন টার্নার বলেছেন, সীমান্তপথে অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত এই চক্রকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে একাধিক দেশের ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত থাকায় চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগকে দেশটির কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। লরি বা অন্য যানবাহনে লুকিয়ে মানুষকে সীমান্ত পার করানো তাঁদের জীবনকেও গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসনে সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন