বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে সাগরপথে পাচারের চেষ্টা, ১৭ বাংলাদেশী উদ্ধার

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২৯

মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বাড়িতে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

এসআরবি-১৫-এর টেকনাফ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানান, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারেন, একটি মানবপাচারকারী চক্র বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজনকে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বাড়িতে জড়ো করেছে। পরে সেখানে অভিযান চালানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মো. করিম জানান, প্রায় পাঁচ দিন আগে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তিনি সাইফুল নামে এক ব্যক্তির কাছে টেকনাফে আসেন। ওই দিনই নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা থাকলেও পরে তাকে ও অন্যদের কয়েক দফা হাতবদল করা হয়। একপর্যায়ে তাদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সুযোগ পেয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন বলে জানান।

এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. সাফায়েত হোসেন রয়েছেন।

এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফাকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, লাভের আশায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল। তাদের নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন