পলাতক ২ বাংলাদেশী
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে খুঁজছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ঘটনায় তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারী কিশোরী হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির দেখা পাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে ওয়েভার্স ফিল্ডস এলাকায় যায়। সেখানে তার ওপর যৌন হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে এক পথচারী কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে সহায়তা করেন।
এ ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে শওকত আহমেদ (৩১) ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদার (৩৪) নামে দুই ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, শওকত আহমেদের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাজ্যেই থাকতে পারেন। অন্যদিকে, জাহিদুল হাসান জায়গীরদারেরও টাওয়ার হ্যামলেটসের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন বলেও পুলিশের ধারণা। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত নয়।
তদন্তে সহায়তার জন্য পুলিশ সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তাঁদের সন্ধান চেয়েছে। তাঁদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে ১০১ নম্বরে ফোন করে 01/668295/24 রেফারেন্স উল্লেখ করতে বলেছে পুলিশ। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের 0800 555 111 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।
ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও বিব্রতকর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় পুরো কমিউনিটির ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে আসার পর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সামাজিক পরিচিতি ও ভাবমূর্তি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অপরাধের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক এবং দায়িত্বশীল আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাস থেকে আরো পড়ুন