যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের জন্য সমঝোতা চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
সোমবার জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "চুক্তিটি সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও স্বাক্ষরের বিষয়টি বাকি।"
তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এর বাস্তবায়ন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে একটি শান্তি চুক্তিতে সমঝোতা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কাতার, সৌদি আরব, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি জানান।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক। তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।"
যদিও বিবিসির যাচাইয়ে দেখা গেছে, এখনো প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
সমঝোতার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়ও রয়েছে
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, সমঝোতার আওতায় লেবাননেও সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
ইরানও জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধের অবসান এই চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিরাপত্তা অবস্থান বজায় রাখবে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সব ধারা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ইরানের জন্য একটি "গৌরবের দলিল" হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, দেশের জনগণের প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কারণেই ইরান কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের স্বাগত
জাতিসংঘ এই সমঝোতাকে সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তান, কাতার, মিসর, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করছে জাতিসংঘ।
যদিও যুদ্ধবিরতির রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, তবুও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভবিষ্যতে আরও দফায় আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন