বাংলাদেশ

সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের ১০ অপচেষ্টা ব্যর্থ, কঠোর অবস্থানে বিজিবি

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ ১১:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশইনের অন্তত ১০টি প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে নজরদারি, টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বুধবার (৪ জুন) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেছে বিজিবি। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের নিয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়।

এছাড়া যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত, জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নেত্রকোনার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের প্রস্তুতি ও অপচেষ্টার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির দাবি, সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং সুযোগ পেলেই তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এমন আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশইন করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ভারতের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সিলেট সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে তদন্তে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরও ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতি এবং দুই দেশের বিদ্যমান সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে। সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন