বিশ্ব

কিশোর হেনরি নওয়াক হত্যা ইস্যু

ফারাজকে কড়া জবাব দিয়ে ‘টু-টিয়ার পুলিশিং’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ ০৪:০৪

যুক্তরাজ্যের কিশোর হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি অভিযোগ করেন, ফারাজ একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন ও ক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বুধবার (৩ জুন) পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে (PMQs) এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ফারাজ দাবি করেন, হেনরি নওয়াকের ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে তথাকথিত “টু-টিয়ার পুলিশিং” বা বৈষম্যমূলক পুলিশি আচরণের উদাহরণ।

গত ডিসেম্বরে সাউদাম্পটনে ১৮ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হেনরি নওয়াককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ২৩ বছর বয়সী ভিকরাম দিগওয়া। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, যার ন্যূনতম মেয়াদ ২১ বছর।

মামলার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজ। সেখানে দেখা যায়, গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা নওয়াককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে আটক করছে। এর আগে হত্যাকারী দিগওয়া পুলিশকে মিথ্যা অভিযোগ করে জানায়, সে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে আহত নওয়াককেই সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে।

ফুটেজে নওয়াককে বারবার বলতে শোনা যায়, “আমি শ্বাস নিতে পারছি না।” ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পার্লামেন্টে ফারাজ বলেন, পুলিশের বর্ণবাদবিরোধী নীতিমালা ও নির্দেশিকার কারণে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে ভিন্নভাবে আচরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্ষোভ ও বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, নওয়াকের পরিবার স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছে যেন তাদের সন্তানের মৃত্যুকে ঘিরে সমাজে ঘৃণা বা বিভাজন সৃষ্টি না করা হয়। সেই আহ্বান উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া “ক্ষমার অযোগ্য”।

নওয়াকের বাবা মার্ক নওয়াকও সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা চাই হেনরির মৃত্যুর ঘটনা ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ হোক। আমরা চাই না এটি আরও ঘৃণা বা বিভেদের জন্ম দিক।”

এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকও ফারাজের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনাকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত না করে জাতীয় ঐক্য ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি সামনে আনা উচিত।

অন্যদিকে সাউদাম্পটনে নওয়াক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হ্যাম্পশায়ারের পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার ডোনা জোন্স জানান, নওয়াকের পরিবার এসব সহিংস প্রতিবাদকে সমর্থন করে না।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের পুলিশ প্রধানদের সংগঠন ‘পুলিশ অ্যান্টি-রেসিজম কমিটমেন্ট’ শীর্ষক একটি বিতর্কিত নীতিমালার ভাষা পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ওই নীতিমালার কিছু অংশ পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী পুলিশি ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ইন্ডিপেনডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কন্ডাক্ট (IOPC) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে ব্রিটিশ জনমত ও রাজনৈতিক মহল।

সূত্র: বিবিসি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন