গ্যাস, জ্বালানি তেল ও পরিবহন ভাড়ার পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। কমিশন জানিয়েছে, নতুন দাম গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। কোম্পানিগুলোর দাবি ছিল, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন। পরে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গড়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিল্পখাতের ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন সময়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলো, যখন ইতোমধ্যে গ্যাস, জ্বালানি তেল এবং পরিবহন খাতে একাধিক মূল্য সমন্বয়ের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। দুই বছরের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এলো।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন