বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

হাজারগুণ শক্তিশালী কোয়ান্টাম চিপ তৈরী করলো মাইক্রোসফট

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ০৩:১৮

ছবি: বিবিসি

প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাইক্রোসফটের নতুন কোয়ান্টাম চিপ ‘মেজোরানা ২’। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের নতুন কোয়ান্টাম চিপ আগের সংস্করণের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ বেশি নির্ভরযোগ্য, যা ভবিষ্যতের শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, নতুন এই চিপের কিউবিট বা কোয়ান্টাম তথ্য সংরক্ষণ ইউনিট আগের মতো কয়েক মিলিসেকেন্ড নয়, বরং গড়ে প্রায় ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে এটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ কিউবিট অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য তাপমাত্রা পরিবর্তন বা কম্পনেও তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মাইক্রোসফট কোয়ান্টামের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলফি আলম বলেছেন, “২০২৯ সালের মধ্যেই আমরা এমন একটি কোয়ান্টাম মেশিন তৈরি করতে চাই, যা বাস্তব ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে পারবে।”

বর্তমানে ‘মেজোরানা ২’ চিপে রয়েছে মাত্র ১২টি কিউবিট। তবে কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে ভবিষ্যতে লাখ লাখ কিউবিট প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির দৌড়ে রয়েছে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। কারণ এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এমন জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারবে, যা বর্তমানের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারেও সম্ভব নয়।

মাইক্রোসফট প্রায় দুই দশক ধরে “টপোলজিক্যাল কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তাদের গবেষণা মূলত “মেজোরানা” নামের একটি বিশেষ কোয়াসি-পার্টিকেলের ওপর ভিত্তি করে, যা দীর্ঘদিন শুধুই তাত্ত্বিক ধারণা হিসেবে ছিল।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, মাইক্রোসফটের এই অগ্রগতি সত্যিই কার্যকর হলে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব সারের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল স্টিভেনসন বলেছেন, “যদি তাদের দাবি বাস্তবে প্রমাণিত হয়, তাহলে মাইক্রোসফট কোয়ান্টাম প্রযুক্তির বড় প্রতিযোগী হয়ে উঠবে।”

তবে মাইক্রোসফটের দাবি নিয়ে এখনো কিছু সংশয় রয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি তাদের গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। পাশাপাশি নতুন গবেষণাপত্রটি এখনো স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পিয়ার রিভিউ হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালে মেজোরানা সম্পর্কিত একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করতে হয়েছিল মাইক্রোসফটকে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা চালিয়ে যায় এবং ২০২৫ সালে প্রথম “মেজোরানা” চিপ উন্মোচন করে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, সফল কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করা, উন্নত সার তৈরি, নতুন ওষুধ আবিষ্কারসহ জটিল বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধান অনেক দ্রুত সম্ভব হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন