বিশ্ব

‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ ঘিরে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড়

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ০৩:১০

ছবি: বিবিসি

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ ঘিরে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় চলছে দেশটির গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। অভিযোগগুলোকে “ভয়াবহ ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম।

বিবিসি প্যানোরামার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, শোটির শুটিং চলাকালে দুই নারী প্রতিযোগী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া আরও এক নারী অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন আচরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুরুষরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’-এর সংশ্লিষ্ট সব পর্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেয় চ্যানেল ফোর। একই সঙ্গে শোটির একটি বড় স্পন্সরও নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকজন এমপি চ্যানেল ফোর ও অফকমের কাছে ব্যাখ্যা চান। এর জবাবে অফকম জানায়, তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং চ্যানেল ফোরের অভ্যন্তরীণ তদন্তের রিপোর্ট জরুরিভাবে পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে চ্যানেল ফোর স্বীকার করেছে, শো সম্প্রচারের আগে অভিযোগসংক্রান্ত “কিছু তথ্য” তাদের জানা ছিল। তবে তারা দাবি করেছে, সে সময় পাওয়া তথ্য বিবেচনা করেই অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

চ্যানেল ফোরের প্রধান নির্বাহী প্রিয়া ডোগরা বলেন, “আমরা কখনোই এসব অভিযোগকে হালকাভাবে নিইনি।” তিনি আরও দাবি করেন, শোটি “ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শক্তিশালী ওয়েলফেয়ার প্রটোকল” অনুসরণ করে তৈরি করা হয়।

এদিকে ঘটনার পর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সামনে আসার আহ্বান জানিয়েছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে রিয়েলিটি শোগুলোর নিরাপত্তা, অংশগ্রহণকারীদের মানসিক সুরক্ষা ও প্রযোজনা নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন