দেশের অর্থনীতিতে বিদেশি ঋণের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ০৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে এসব ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি অর্থবছরে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের জন্য সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পরিশোধ করা হচ্ছে।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা ঋণের পরিমাণ মাত্র ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা মোট ঋণের তুলনায় খুবই সামান্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঋণ ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
এদিকে সরকার বলছে, পরিকল্পিত বাজেট ও নিয়মিত পরিশোধ সূচির মাধ্যমে ঋণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—ঋণের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বৈদেশিক ঋণ এখন দেশের অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন