বিশ্ব

পার্লামেন্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:২২

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসন-এর নিয়োগের আগে তার নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।

সোমবার (২০ এপ্রিল) পার্লামেন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, তিনি যদি আগে জানতেন যে ম্যান্ডেলসন প্রাথমিক নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি, তাহলে কখনোই তাকে এই পদে নিয়োগ দিতেন না।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা নিরাপত্তা যাচাই সংস্থার সুপারিশের বিরুদ্ধে গিয়ে ম্যান্ডেলসনকে অনুমোদন দেন। অথচ এ বিষয়ে তাকে একাধিকবার জানানো উচিত ছিল—নিয়োগের সময়, বরখাস্তের সময় এবং পরবর্তীতে যাচাই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ার সময়ও।

তিনি বলেন, “এটি কোনো ভুল বা অসাবধানতা ছিল না; বরং বারবার তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব নেন। তবে বিতর্কিত সম্পর্কের অভিযোগে মাত্র সাত মাস পর তাকে অপসারণ করা হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, স্টারমার পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং নিজের দায় এড়াতে কর্মকর্তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সংসদ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করা হয়নি।

স্টারমার অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করেননি এবং বিষয়টি জানার পরই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি জানান, এখন থেকে নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ঘোষণা করা হবে না।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন