ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩৪
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির সব বন্দর অবরোধের ঘোষণা বাস্তবায়ন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ অবরোধ কার্যকর হয় বলে জানিয়েছে US Central Command।
মার্কিন বাহিনীর আগের ঘোষণার ধারাবাহিকতায় জানানো হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ যদি ইরানের বন্দরগামী হয় বা সেখান থেকে বের হতে চায়, তাহলে তা আটক, ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা জব্দ করা হতে পারে।
তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ এ অবরোধের আওতায় পড়বে না বলেও স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ওমান উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং আরব সাগর অঞ্চলে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে অবরোধ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, “পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।”
তিনি মার্কিন অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলেও উল্লেখ করেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রুট?
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন