ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর ঘোষিত নৌ অবরোধ নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালেও সংকটের মৌলিক কোনো সমাধান আনতে পারছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রায় ২০ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন কৌশল হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয়। আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করবে এবং প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জটিল সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে— কোন জাহাজকে বাধা দেওয়া হবে, আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা কী হবে, এবং অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে—এসব বিষয় এখনও অস্পষ্ট।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও মতভেদ দেখা গেছে। সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মাইক টার্নার মনে করছেন, এই অবরোধ কূটনৈতিক সমাধানে চাপ তৈরির একটি উপায় হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনো দুই ধরনের সংকট বিদ্যমান—একদিকে সামরিক অভিযান জোরদার করলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে সংঘাত থেকে সরে এলে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জনমতও পুরোপুরি সরকারের পক্ষে নয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মতো লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের প্রধান আয়ের উৎসে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই অবরোধের ফলে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্ববাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাত এখন এক ধরনের ‘ধৈর্যের লড়াই’-এ পরিণত হয়েছে—একদিকে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহনশীলতা। তবে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন