কুষ্টিয়া পীরের দরবারে হামলা
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:০৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দরবারে হামলা ও পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ময়নাতদন্তে তার মুখমণ্ডলে ১৫ থেকে ১৮টি ধারালো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকেরা। ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই উত্তেজনা, হামলায় শতাধিক লোক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শতাধিক মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবারে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে পীর শামীমকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হামলার সময় দরবারের ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ময়নাতদন্তে ভয়াবহ আঘাতের বর্ণনা
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এর মর্গে করা ময়নাতদন্তে চিকিৎসকেরা জানান, নিহতের মুখমণ্ডলে অসংখ্য কোপের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি মাথা, ঘাড় ও পিঠেও গভীর জখম পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দাফন সম্পন্ন, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
রোববার বিকেলে জানাজা শেষে ফিলিপনগর ইউনিয়ন এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা ঘিরে বিপুল মানুষের উপস্থিতি ছিল। পুরো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মামলা হয়নি, পরিবার এখনো নীরব
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় তারা এখনই মামলা করতে চাচ্ছে না। বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না আসায় আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি।
হামলা কি পরিকল্পিত ছিল?
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত থেকেই কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও ছড়ানো হচ্ছিল। এরপর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠকের বিষয়ও সামনে এসেছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকেই কিছু ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক ছিল এবং দুপুরের পরপরই হঠাৎ করে বড় একটি দল দরবারে হামলা চালায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।
শনাক্তের চেষ্টা চলছে
থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন