প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে এমন আশঙ্কায় যুক্তরাজ্য তার নাগরিকদের জন্য নতুন করে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এই সতর্কতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ভ্রমণ সতর্কতায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা এবং নির্বিচার আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সমাবেশ, বড় জমায়েত, ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে ভ্রমণ করলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।
এফসিডিও আরও জানিয়েছে, সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ অমান্য করে কেউ বাংলাদেশে গেলে তার ভ্রমণ বীমা বাতিল হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ বিপদের মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সতর্কতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণ ছাড়া অন্য সব ধরনের যাতায়াত নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় নিয়মিত সহিংসতা ও অপরাধমূলক ঘটনার খবর পাওয়া যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এসব এলাকায় কোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এমন আন্তর্জাতিক সতর্কতা সরকারের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও ভাবমূর্তিগত ধাক্কা। একটি নির্বাচন যদি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা যায়, তাহলে বিদেশি সরকারগুলো সাধারণত এমন কঠোর সতর্কতা জারি করে না। ফলে এই সতর্কতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
পর্যটন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রবাসী যোগাযোগের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আবারও একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য’ হিসেবে তুলে ধরছে এই ভ্রমণ সতর্কতা, যা সরকারের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন