বাংলাদেশ

বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ সিলেটের উপদেষ্টার

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:৩৩

বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারের পর সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরি প্রকাশ্যে এনেছেন গুরুতর অভিযোগ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। পরে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে ম্যাচ ফিক্সিং, বিশ্বাসঘাতকতা এবং পুরো টুর্নামেন্টকে জুয়ার ব্যবসা আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ১২ রানে হেরে যায় সিলেট টাইটান্স। এই জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে উঠে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। পরাজয়ের পরপরই মাঠ ছাড়ার সময় কান্নাভেজা কণ্ঠে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফাহিম আল চৌধুরি।

ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে এবং সিলেট দলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তি সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে এবং সবচেয়ে বড় কথা সিলেটবাসীর আবেগের সঙ্গে নির্মম বেইমানি করেছে।

ফাহিম বলেন, এই ঘটনার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে তার কাছে আর্থিক প্রয়োজনের কথা জানাতে পারতেন। কিন্তু প্রতারণার পথ বেছে নেওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি এখানেই শেষ হবে না এবং ঘটনার গভীর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই হারটি সিলেটের প্রকৃত হার নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হার। ম্যাচটি সম্পূর্ণভাবে কম্প্রোমাইজড ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ম্যাচ দেখেছেন এমন অনেকেই বিষয়টি বুঝে গেছেন বলে মন্তব্য করেন ফাহিম।

লাইভ বক্তব্যে তিনি বিপিএলসহ পুরো ব্যবস্থাকেই বেইমানি ও জুয়ার ব্যবসার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, এই ঘটনার কারণে সিলেট দলের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং পুরো সিলেটবাসীকে কাঁদানো হয়েছে।

টুর্নামেন্টের মাঝপথে সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ফাহিম আল চৌধুরি বিভিন্ন মন্তব্য ও আচরণে আলোচনায় ছিলেন। এলিমিনেটর ম্যাচ জয়ের পর তার আবেগঘন উদযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের পর তার বিস্ফোরক অভিযোগ বিপিএলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ফাহিম আল চৌধুরির এই অভিযোগের পর ক্রিকেট অঙ্গনে ম্যাচের স্বচ্ছতা ও টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন