কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত নুর কামাল (২৫) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ২৬ নম্বর নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আই ব্লকের বাসিন্দা। তিনি একই ক্যাম্পের আবুল কালামের ছেলে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ক্যাম্পে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নুর কামাল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার দুপুরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার (এডিআইজি) জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নুর কামাল গ্রুপ ও খালেক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই মধ্যরাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত নুর কামাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন এবং নিজের নামে একটি বাহিনী গড়ে তুলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জড়িতরা পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্যাম্প সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে ক্যাম্প এলাকায় তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ আশ্রিত রোহিঙ্গারা।
ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ গুলির শব্দে পুরো ব্লকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনার পর ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন