রাজনীতি

খালেদা জিয়া ও ভারতের সম্পর্কে ওঠানামার নেপথ্য কাহিনি

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৬ ০৪:৫৬

ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সোনিয়া গান্ধীর সাথে বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও ওঠানামাপূর্ণ। কখনো সহযোগিতা, কখনো অবিশ্বাস—এই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই কেটেছে তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই সম্পর্কের নেপথ্য চিত্র।

বিবিসি জানায়, খালেদা জিয়ার জন্ম ভারতের জলপাইগুড়িতে হলেও রাজনৈতিক জীবনে ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনোই সহজ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেত্রী—দুই ভূমিকাতেই তিনি একাধিকবার ভারতে সফর করেছেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে পারস্পরিক সন্দেহ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সম্পর্কটি কখনোই পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি।

ভারতের সঙ্গে দূরত্বের কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ও ভারতের দৃষ্টিতে ‘ভারতবিরোধী রাজনীতি’ এই দূরত্বের অন্যতম কারণ। ভারতের অনেক নীতিনির্ধারকের মতে, খালেদা জিয়ার আমলে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছিল এবং সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছিল।

অন্যদিকে বিএনপির দাবি, ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধেই তারা অবস্থান নিয়েছিল এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

প্রথম মেয়াদে সম্পর্ক তুলনামূলক স্বাভাবিক

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। সে সময় দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সীমান্ত ও অবৈধ অভিবাসন ইস্যুও উঠে আসে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আস্থা কমতে থাকে।

দ্বিতীয় মেয়াদে সম্পর্কের অবনতি

২০০১ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হয়। ভারতের অভিযোগ ছিল, ওই সময় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধাক্কা দেয়।

ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, এই সময়টাই ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়।

পরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টাও করে দিল্লি। ২০১২ সালে খালেদা জিয়ার ভারত সফর এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক তারই অংশ ছিল।

তবে সেই সম্পর্ক আর স্থায়ী রূপ পায়নি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় আবারও দূরত্ব বাড়ে।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত আবারও বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দিল্লির দৃষ্টিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন যেন একটি পূর্ণ বৃত্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

 সূত্র: বিবিসি বাংলা।

রাজনীতি থেকে আরো পড়ুন